দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিতে ১ হাজার ৩০টি যন্ত্র কেনা হবে। এর মধ্যে ১৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ৫৯০টি এবং ৪০টি জেলা হাসপাতালের জন্য ৪৪০টি। কিন্তু এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় বছর আগে প্রকল্প গ্রহণ এবং এ সময়ে তিনবার টেন্ডার আহ্বান করেও কেনাকাটা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। টেন্ডার সম্পন্ন না হওয়ার কারণ অনিয়মের অভিযোগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সবসময় ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আগের দুবারের মতো এবারও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই টেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার ফলে আধুনিক মানসম্পন্ন ডায়ালাইসিস যন্ত্র কেনা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। এতে সরকারের অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। দরপত্র নিয়ে জটিলতার মধ্যেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন। স্বাভাবিকভাবেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর। রাজধানীকেন্দ্রিক সেবার কারণে জেলা পর্যায়ের অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে দূরদূরান্তে। যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর বেঁচে থাকা নির্ভর করছে, তাদের জন্য প্রতিটি বিলম্বই বাড়াচ্ছে চিকিৎসা ও যাতায়াতের চাপ।
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, দেশের কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এর মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। দেশে প্রতি বছর কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও দেশে কতজন রোগীর কিডনি সম্পূর্ণ বিকল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। তবে দেশে রোগীর চাহিদার তুলনায় ডায়ালাইসিস সেবার পরিধি যে অপ্রতুল এবং কিডনি রোগীর চিকিৎসার ব্যয়ও যে অধিকাংশ রোগীর সাধ্যের বাইরে, এ কথা সবারই জানা এবং এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
Leave a Reply