যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সিনেটের ১১টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাট দল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বাকি থাকা ২০টি আসনের মধ্যে দলটির আরও মাত্র ৬টিতে জয় প্রয়োজন। সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণও যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের হাতেই।
ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—রয় কুপার (নর্থ ক্যারোলাইনা), ক্রিস পাপাস (নিউ হ্যাম্পশায়ার), জন অসফ (জর্জিয়া), ক্রিস কুনস (ডেলাওয়্যার), কোরি বুকার (নিউ জার্সি), জন রিড (রোড আইল্যান্ড), এডওয়ার্ড মার্কি (ম্যাসাচুসেটস), জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন (ইলিনয়), জন হিকেনলুপার (কলোরাডো) এবং বেন লুজান (নিউ মেক্সিকো)। এছাড়া জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অঙ্গরাজ্য একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে গভর্নর হিসেবে বেছে নিল, যেখানে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে গভর্নরের পদটি ছিল রিপাবলিকানদের দখলে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং সাধারণত যেকোনো আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষেই উত্থাপন ও আলোচনা শেষে সিনেটে পাঠানো হয়।
নির্বাচনে এই ফলাফলের ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সমন জারি ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা অর্জন করবে। এই ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ডেমোক্রেটিক পার্টির নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে আরও জোরালো করবে। এদিকে নির্বাচনের হারের আভাস পাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে জানিয়েছেন যে তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের জন্য তিনি মূলত ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকেই দায়ী করেছেন।
Leave a Reply