1. alameu@gmail.com : News Desk : News Desk

শুধু র‍্যাম নয় স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রথমেই নজর দেন ডিভাইসটিতে কত জিবি র‌্যাম রয়েছে। বর্তমানের বাজারে ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র‌্যামের নানা বিজ্ঞাপন বেশ আকর্ষিত করে। এর ফলে অনেকের মাঝেই এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, র‌্যামের পরিমাণ যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র কিছুটা আলাদা। একটি স্মার্টফোন কতটা দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করবে, তা কেবল র‌্যামের ওপর একাই নির্ভর করে না; বরং এর পেছনে প্রসেসর, স্টোরেজ ও সফটওয়্যারের মতো আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে।

তাই কেবল র‌্যামের সংখ্যা দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর কার্যকারিতা এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোও গভীরভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

**র‌্যামের মূল কাজ কী?**
র‌্যাম বা র‍্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি মূলত ফোনের একটি অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারকারী যখন একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ওপেন রাখেন, তখন সেগুলোর প্রয়োজনীয় ডেটা সাময়িকভাবে র‌্যামে জমা থাকে। এর ফলে একটি অ্যাপ থেকে অন্যটিতে যাওয়ার পর পুনরায় আগের অ্যাপটিতে ফিরে গেলে সেটিকে প্রায় আগের অবস্থাতেই সচল পাওয়া যায়।

**ফোনের গতিতে প্রসেসরের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি**
স্মার্টফোনের সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণে প্রসেসর বা চিপসেটের ভূমিকা অত্যন্ত প্রধান। অ্যাপ চালানো, গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো কাজগুলো কত দ্রুত সম্পন্ন হবে, তার একটি বড় অংশ নির্ভর করে প্রসেসরের ক্ষমতার ওপর।

এ কারণে পুরোনো প্রজন্মের শক্তিশালী চিপসেটের তুলনায় নতুন প্রযুক্তির তুলনামূলক কম র‌্যামযুক্ত ফোনও অনেক সময় শ্রেয়তর পারফরম্যান্স দিতে পারে। নতুন ফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসরের ব্র্যান্ড নয়, এর নির্দিষ্ট মডেল, জেনারেশন বা প্রজন্ম এবং কার্যক্ষমতা যাচাই করা উচিত। স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি বা অ্যাপল এ-সিরিজের চিপসেটগুলোর মধ্যে পারফরম্যান্সের তারতম্য রয়েছে। বিশেষ করে যারা ভারী কাজ বা গেমিংয়ের জন্য ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য চিপসেটের বাস্তব কার্যকারিতা জানা জরুরি।

**স্টোরেজের গতির প্রভাব**
স্মার্টফোনের স্টোরেজ বলতে ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন অ্যাপ সংরক্ষণের জায়গাকে বোঝানো হলেও এর ধারণক্ষমতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন গতির স্টোরেজ প্রযুক্তি রয়েছে। যেমন—ইএমএমসি প্রযুক্তি তুলনামূলক ধীরগতির হয়ে থাকে, অন্যদিকে ইউএফএস ২.২, ইউএফএস ৩.৩ কিংবা ইউএফএস ৪.০ ক্রমান্বয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতি প্রদান করে।

দ্রুতগতির স্টোরেজ থাকলে যেকোনো অ্যাপ দ্রুত চালু করা, বড় ফাইল স্থানান্তর এবং গেমের লোডিং টাইম কমিয়ে আনা সহজ হয়। ফলে অধিক র‌্যাম থাকা সত্ত্বেও যদি স্টোরেজ ধীরগতির হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যায় না।

**সফটওয়্যারের গুণগত মান**
একই পরিমাণ র‌্যাম এবং কাছাকাছি হার্ডওয়্যার সংবলিত দুটি ভিন্ন ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বেশ তফাত দেখা যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থাকা অ্যাপগুলো র‌্যাম ও প্রসেসরের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু ফোনে অতিরিক্ত প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ ও ভারী ইউজার ইন্টারফেসের কারণে সিস্টেমের বাড়তি রিসোর্স খরচ হয়।

পক্ষান্তরে, সুচারুভাবে অপটিমাইজ করা সফটওয়্যার তুলনামূলক সীমিত হার্ডওয়্যারেও দারুণ সাবলীল অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম। এ কারণেই আইফোনের মতো ডিভাইসে অপেক্ষাকৃত কম র‌্যাম থাকলেও চমৎকার পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। তাই ফোন কেনার আগে শুধু স্পেসিফিকেশন না দেখে সফটওয়্যারের অভিজ্ঞতা ও আপডেট সুবিধা যাচাই করা ভালো।

**ভার্চুয়াল র‌্যাম কি আসলেই কার্যকর?**
আজকাল অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে মূল র‌্যামের পাশাপাশি অতিরিক্ত এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল র‌্যামের কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়। যেমন—৮ জিবি র‌্যামের সঙ্গে আরও ৮ জিবি ভার্চুয়াল র‌্যাম যুক্ত করে মোট ১৬ জিবি দাবি করা হলেও বাস্তবে বিষয়টি সেরকম নয়।

ভার্চুয়াল র‌্যাম তৈরির জন্য ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজের একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়, যা প্রয়োজনে অস্থায়ী মেমোরির মতো কাজ করে। তবে স্টোরেজের গতি প্রকৃত র‌্যামের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এটি মূল র‌্যামের শতভাগ বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রচারণায় ১৬ জিবি বলা হলেও এটিকে প্রকৃত ১৬ জিবি র‌্যাম ধরে নেওয়া ভুল হবে।

**স্মার্টফোন কেনার আগে যা যা যাচাই করবেন**
একটি মানসম্মত ও টেকসই ফোন বেছে নিতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

* **প্রসেসর:** চিপসেটের নির্দিষ্ট মডেল, প্রজন্ম ও কার্যক্ষমতা জেনে নিন।
* **স্টোরেজ:** ফোনটিতে ইএমএমসি নাকি আধুনিক ইউএফএস স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে তা যাচাই করুন।
* **ডিসপ্লে:** স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট, রেজল্যুশন এবং প্যানেলের মান দেখে নিন।
* **ব্যাটারি:** ধারণক্ষমতার পাশাপাশি ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি এবং সার্বিক ব্যাকআপ কেমন তা জানুন।
* **সফটওয়্যার আপডেট:** ডিভাইসটি দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে কি না তা নিশ্চিত হোন।
* **বাস্তব অভিজ্ঞতা:** নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিভিত্তিক রিভিউ দেখুন এবং সম্ভব হলে নিজে হাতে ব্যবহার করে যাচাই করুন।
* **ওয়ারেন্টি ও মূল্য:** অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বর্তমান বাজারদর মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

সারაკথা হলো, স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র‌্যাম প্রয়োজনীয় হলেও এটি একমাত্র নিয়ামক নয়। একটি শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুতগতির স্টোরেজ এবং উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের সুষম সমন্বয়ই মূলত ফোনকে দ্রুত ও সাবলীল করে তোলে। তাই বিজ্ঞাপনের বড় বড় অঙ্কের র‌্যাম দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের প্রয়োজন ও বাজেটের সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে ফোন নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Share this news as a Photo Card

Share this news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
২০২৬ © জনদর্পণ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

শুধু র‍্যাম নয় স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

03 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.jondarpan.com